মরণ বাঁধ ফারাক্কার কারণে পদ্মা এখন ধূধূ বালু চর নিয়ে লিখার জন্য খাতা কলম, তথ্য - উপাত্ত, নিয়ে ল্যাপটপের সামনে বসলাম এমন সময় জানা যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ নিজে উপস্থিত হয়ে মাটিকাটা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন এবং ১৩ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ের বাল্য বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। এ কর্মকর্তা গোদাগাড়ী উপজেলার বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে বেশ তৎপর রয়েছেন এর আগে তিনি দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের বিয়ে বন্ধ করে কনে পক্ষকেও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। দেশে বাল্য বিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে মোবাইল করে এ সর্ম্পকে একটু কিছু লিখার অনুরোধ করেছেন তাই আল্লাহর নাম নিয়ে এ বিষয়ে লিখা শুরু করলাম। সমাজব্যবস্থায় বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যার মাধ্যমে নারী-পুরুষের সুখ-শান্তি, প্রেম-প্রীতির মধুরতম বন্ধন সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে মানব বংশের স্থায়িত্ব ও সভ্যতার বিকাশ ঘটে। তবে বাল্যবিবাহ দেশ ও জাতির জন্য অভিশাপ। পৃথিবীর যে কয়টি দেশে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেশি, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। আমাদের দেশে বেশিরভাগ মেয়ের বিয়ে হয় ১২-১৮ বছরের মধ্যে। বিয়ের ১৩ মাসের মধ্যেই ৬৫% নারী সন্তান ধারণ করেন। গ্রামের নারীদের বেশিরভাগই বিয়ের এক বছরের মধ্যে সন্তান জন্ম দেন। এসব বাল্যবিবাহের অধিকাংশ কারণ হচ্ছে- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিতি, স্মার্ট ফোনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি, ছেলে মেয়ের অবাধে বিচরণ, কন্যা সন্তানকে বোঝা মনে করা, দরিদ্রতা, সচেতনতার অভাব, প্রচলিত কুসংস্কার, সামাজিক অস্থিরতা, মেয়েশিশুর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, নিরাপত্তার অভাব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, যৌতুক প্রথা এবং বাল্যবিবাহ রোধ-সংক্রান্ত আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াসহ নানা কারণে বাল্য বিয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, পিতা মাতা মেয়েদের বাল্য বিয়ে দেওয়াটাকে মুখ্য, পড়া লিখা করাটাকে গৌণ বলেই মনে করছেন। বাল্যবিবাহের কারণে অপরিণত বয়সে সন্তান ধারণ, মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যহানি, তালাক, পতিতাবৃত্তি, অপরিপক্ব সন্তান প্রসবসহ নানাবিধ জটিলতার শিকার হচ্ছে।