২০২০ সালের ৪ জুন শিশু হেল্পলাইন নম্বর ১০৯৮ বেজে উঠল। ফোনের অপর প্রান্তে কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা লাবণ্য (তার প্রকৃত নাম নয়) নামে ১৬ বছরের এক কিশোরী মরিয়া হয়ে হেল্পলাইন কর্মীদের কাছে আসন্ন শিশু বিবাহ থেকে তাকে উদ্ধার করার অনুরোধ জানাচ্ছিল।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা তার বিয়ে বন্ধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় সে হেল্পলাইন কর্মীদের সহযোগিতা চাইতে বাধ্য হয়েছিল বলে কাঁপা কাঁপা ও ভয়ার্ত কণ্ঠে কিশোরী বিষয়টি হেল্পলাইনে জানালো।
বৃহত্তর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারকরণ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ইউনিসেফ ১০৯৮ হেল্পলাইনটিকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এই হেল্পলাইনটি বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা বিভাগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।
হেল্পলাইনে লাবণ্য যে তথ্য দিয়েছিল সেটা যাচাই করার পরে ১০৯৮ টিম ঘটনাটি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছিল। সমাজসেবা কর্মকর্তা ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন এবং তিনি বিবাহ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে তাদেরকে জানিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে, নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় শিশু বিবাহের সকল আয়োজন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং শিশু বিবাহের খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে তারা লাবণ্যের বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
ল্যাবণ্যদের পাঁচ সদস্যের পরিবারে তার বাবা একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। লাবণ্যের বাবা এক মুদি দোকানে দোকানদার হিসাবে কাজ করেন। কোভিড-১৯ এর কারনে সৃষ্ট লকডাউনের সময় লাবণ্যের বাবার আয়-রোজগার কমে গিয়েছিল। পরিবারটি তাই খুব কঠিন সময় পার করছিল।
খুব ভাল নম্বর নিয়ে লাবণ্য এবছর একাদশ শ্রেণির জাতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। একটি শিশু বিবাহ কীভাবে তার মেয়ের ভবিষ্যতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে সে বিষয়টি ১০৯৮ থেকে পরামর্শ পাবার পরে লাবণ্যের বাবা বুঝতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, মেয়েকে বিয়ে দিয়েই তিনি যে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারতেন না, সে বিষয়টিও তিনি অনুধাবন করতে সক্ষম হন। শিক্ষিত কন্যা সন্তান পরিবারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে ভবিষ্যতে সম্পদে পরিণত হবে সে বিষয়টিও তিনি উপলব্ধি করেছিলেন।