২০২৫ সালের ৮ই মার্চ, বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলায় এক ২০ বছর বয়সী যুবক তার প্রতিবেশীর দ্বারা কথিতভাবে ধর্ষণের শিকার হন । এই জঘন্য ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে, বাংলাদেশে এখনও বলবৎ ঔপনিবেশিক আইন ব্যবস্থার ফসল হিসেবে পরিচিত ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি (‘সংবিধি’) পুরুষকে ধর্ষণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, ফলে মামলাটি উক্ত দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় পায়ুকাম হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় । এই ভয়াবহ ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের আইন কাঠামোর প্রকট শূন্যতাকেই প্রতিধ্বনিত করে, যা পুরুষের বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন অপরাধকে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ।
আইনি অস্পষ্টতা
দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো ‘নারীর’ ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা সম্মতি ছাড়া তার সাথে যৌন সঙ্গম করাকে ধর্ষণ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিধানটি পুরুষ ও রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করে না এবং বৈবাহিক ধর্ষণকেও স্বীকৃতি দেয় না।
২০২১ সালে, যেকোনো লিঙ্গের বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন অপরাধকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য ৩৭৫ ধারায় ‘নারী’ শব্দের পরিবর্তে ‘ব্যক্তি’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ধারাটি সংশোধনের দাবিতে হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়। ফলস্বরূপ, ২০২২ সালে, হাইকোর্ট বিভাগ ধর্ষণ আইনে লিঙ্গবৈষম্যের বিষয়টি সমাধান করতে ৩৭৫ ধারাটি সংশোধনের জন্য একটি রুল জারি করে। বেঞ্চ আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ মহাপরিদর্শকের সচিবালয়কে পরবর্তী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই ধরনের প্রতিবেদন প্রদানে বিলম্বের কারণে, নির্দেশাবলী এখনও কার্যকর করা হয়নি।
যদিও নারী ও শিশু নির্যাতন নিপীড়ন আইন, ২০০০ ('আইন') ১৬ বছরের কম বয়সী পুরুষ শিশুদের প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ দেয়, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ধর্ষণের মামলাগুলো অমীমাংসিত থেকে যায়। ফলে, বাংলাদেশে পুরুষ ভুক্তভোগীর জন্য একমাত্র প্রতিকার হলো দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা, যা পুরুষ, নারী বা কোনো পশুর সঙ্গে যৌনমিলনকে “অস্বাভাবিক অপরাধ” হিসেবে গণ্য করে। সুতরাং, ধর্ষণ সংক্রান্ত মৌলিক বিধানে পুরুষ ভুক্তভোগীদের অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাদের মামলাগুলোকে “পায়ুকাম” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ভয়াবহতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে খাটো করে দেখায়।
অধিকন্তু, ধারা ৩৭৭ সেই কঠোর আইনের সারমর্মকে ধারণ করে যা সম্মতিসূচক এবং অসম্মতিসূচক যৌনকর্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা “প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে” সংঘটিত হয়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, “প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে” বলতে কী বোঝায় তা সর্বদা নৈতিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, যা নির্দিষ্ট ভুক্তভোগী গোষ্ঠীর প্রতি কলঙ্ক আরোপ এবং বৈষম্যকে স্থায়ী করে। উদাহরণস্বরূপ, এই বিধানটি প্রাথমিকভাবে ব্রিটিশ আমলে সমকামিতাকে নিন্দা করার জন্য প্রবর্তন করা হয়েছিল। সুতরাং, 'ধর্ষণ' এবং 'পায়ুকাম'-এর মধ্যে নিছক পরিভাষাগত পার্থক্যটি সেই বৃহত্তর পক্ষপাতিত্বকেই প্রতিফলিত করে, যা নির্দিষ্ট যৌনকর্মের ক্ষেত্রে একজন পুরুষ ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতাকে লঘু করে দেখায়।
source: https://ohrh.law.ox.ac.uk/the-code-of-shame-stigmatisation-of-male-rape-victims-in-bangladesh/